নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন / ০৮ / ২০২৬
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে গিয়ে নতুন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। আগে যেখানে রিচার্জের জন্য ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার করা হতো, সেখানে এখন অনেক গ্রাহকের মোবাইলে প্রায় ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ এই নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে বারবার ভুল করছেন গ্রাহকরা। ফলে টাকা পরিশোধ করেও অনেকেই সময়মতো বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্যান্য মাধ্যমে রিচার্জের পর প্রাপ্ত টোকেন নম্বর এতটাই দীর্ঘ যে তা মিটারে প্রবেশ করাতে অনেক সময় লাগছে। সামান্য ভুল হলেই টোকেন গ্রহণ করছে না মিটার। ফলে একাধিকবার চেষ্টা করেও অনেক গ্রাহক রিচার্জ সম্পন্ন করতে পারছেন না।
সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও টোকেন প্রবেশ করাতে না পারায় বাসা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
সিসিকের ১২ নাম্বার ওয়ার্ড এর বাসিন্দা মোহাম্মদ সারাওয়াত বলেন, ‘২০০ ডিজিট টাইপ করা কি সম্ভব? এক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেছি। প্রতিবারই কোথাও না কোথাও ভুল হচ্ছে। তাই অনন্যোপায় হয়ে আমার চাচাতো ভাইয়ের সাহায্য নিলাম, তিনি আরও বলেন আগে নিজেই সহজে রিচার্জ করতে পারতাম। এখন বারবার ভুল হচ্ছে। এতগুলো নম্বর লিখতে গিয়ে চোখে ঝাপসা দেখছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ বা মূল্য সমন্বয়ের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন মূল্যসংক্রান্ত তথ্য মিটারে হালনাগাদ করার জন্য প্রথমবারের মতো প্রায় ২০০ ডিজিটের বিশেষ টোকেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই আপডেট সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী রিচার্জে আবার আগের মতো ২০ ডিজিটের স্বাভাবিক টোকেন নম্বর পাওয়া যাবে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ সমস্যার কোনো বিকল্প সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে প্রথমবার দীর্ঘ টোকেনটি সম্পূর্ণভাবে মিটারে প্রবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহক পরিচয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর কাস্টমার কেয়ার নম্বর ১৬১১৬-এ যোগাযোগ করলে জানানো হয়, নতুন ট্যারিফ কার্যকরের কারণে এই দীর্ঘ টোকেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রথমবারের পর আর এ ধরনের সমস্যা থাকবে না।
তবে হঠাৎ এই পরিবর্তনের বিষয়ে আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক গ্রাহক। বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর উচিত ছিল আগেই বিষয়টি জানিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো। তাহলে গ্রাহকদের এমন ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। বিদ্যুতের সব গ্রাহক সমানভাবে শিক্ষিত নন। অনেক বয়স্ক মানুষও প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন। এত দীর্ঘ নম্বর টাইপ করতে গিয়ে ভুল হওয়ার আশঙ্কা স্বাভাবিক। যদি এমন জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে এর কার্যকর সমাধান খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে স্ক্যানিং বা আরও সহজ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।’
ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) রবিউল হাসান বলেন, ‘বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ নির্ধারণের ফলে প্রথমবারের জন্য প্রায় ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার করতে হচ্ছে। একবার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরবর্তী রিচার্জে আর কোনো বিড়ম্বনা থাকবে না। তখন আগের মতো স্বাভাবিকভাবেই রিচার্জ করা যাবে।