বিজ্ঞপ্তি
জুন / ০৬ / ২০২৬
এম এ ওয়াহিদ চৌধুরীঃ
সিলেটের তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে কৃতিত্বের সহিত অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তরুণ এই উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর। বিদেশে পাড়ি না জমিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে নিজ উদ্যোগে কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত করোনা মহামারির কঠিন সময়ে অনলাইনে মোবাইল রিচার্জ সেবার মাধ্যমে উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে পরিশ্রম, সততা এবং ক্রেতাদের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আস্থাভিত্তিক অনলাইন ব্যবসা আহলাম। আর এবার আমের মৌসুমে সরাসরি বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলতি বছরের ৩ মে সাতক্ষীরায় গিয়ে তিনি নিজেই বাগান থেকে আম সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেন। মাত্র ১৮ দিনে, অর্থাৎ ২৩ মে পর্যন্ত তিনি প্রায় ১২ টন আম বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। তার বিক্রিত আমের প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্রেতাই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এছাড়া বিদেশে বসবাসরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিও তার নিয়মিত ক্রেতা।
তিনি জানান, ৫ মে থেকে গোপালভোগ এবং ১৫ মে থেকে হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেন। ক্রেতাদের হাতে নিরাপদ, সুস্বাদু ও মানসম্মত আম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতি বছর আমের মৌসুমে তিনি রাজশাহী ও সাতক্ষীরার বাগানগুলোতে অবস্থান করেন।
উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে জাহাঙ্গীর জানান, রক্তদান কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সময় এক উদ্যোক্তার সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে তার ব্যবসায়িক জগতে প্রবেশ। ২০২২ সালে তিনি ‘আহলাম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালু করেন। শুরুতে ঘি, খেজুরের গুড়, ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করলেও পরবর্তীতে ক্রেতাদের চাহিদা ও আস্থার কারণে আম বিক্রিতে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেন।
তিনি বলেন,
“ভালো মানের আম নিশ্চিত করতে আমি নিজেই বাগানে গিয়ে সংগ্রহ করি। চলতি বছর সাতক্ষীরার একটি বাগান লিজ নিয়েছি। সেখানে আম শেষ হওয়ার পর পরিচিত বাগান মালিকদের কাছ থেকে বাছাই করে আম সংগ্রহ করছি। ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।”
বর্তমানে তার ব্যবসার মূল কার্যালয় সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া আম সংগ্রহ ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজশাহী, নওগাঁর সাপাহার এবং সাতক্ষীরার দোহাকুলা এলাকায় অস্থায়ী অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থানে মোট আটজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“সফলতার মূল ভিত্তি হলো মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতেই আমি দূর-দূরান্তে গিয়ে কাজ করছি। দেশের মাটিতে কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই পথচলা শুরু করেছি। আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”
সততা, পরিশ্রম এবং মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম আজ সিলেটের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। জাহাঙ্গীর আলম ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও এক ছেলে সন্তানের গর্বিত জনক। পরিবারের মধ্যে তিনি সবার বড়ো। মাতা পিতা ও ভাই বোনদেরকে নিয়েই ব্যবসার উপার্জিত টাকা দিয়ে সুখ শান্তিতে কাটাচ্ছেন জীবন। সফল উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন লেখা পড়া শেষ করে চাকুরি হচ্ছে না আর অপেক্ষা না করেই ফ্যামেলির বুজা না হয়ে উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের জীবনকে সাবলম্ভী হওয়ার আহবান জানান তিনি।