পুণ্যভূমি ডেক্স
মে / ২১ / ২০২৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বসতবাড়ির সিলিং থেকে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পাচাউন এলাকার বাসিন্দা খলিল মিয়ার বাড়ি থেকে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে খলিল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের সিলিংয়ের বাঁশের ওপর বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকতে দেখেন। হঠাৎ ঘরের ভেতরে এত বড় সাপ দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক মানুষ খলিল মিয়ার বাড়িতে ভিড় জমান।
একপর্যায়ে উত্তেজিত কিছু গ্রামবাসী সাপটিকে পিটিয়ে মারার প্রস্তুতি নেন। ঠিক সেই সময় সচেতন এক প্রতিবেশী বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত জনতাকে শান্ত করেন। পরে তারা অত্যন্ত সতর্কতা ও দক্ষতার সাথে সাপটিকে কোনো ধরনের আঘাত ছাড়াই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, বনের ভেতর খাবারের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় খাবারের সন্ধানে সাপটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে। উদ্ধার শেষে অজগরটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আইনি ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অজগরটিকে আজই শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় অবমুক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজকর্মী ও উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাস বলেন, বন্যপ্রাণী আমাদের প্রকৃতির একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী চলে এলে আতঙ্কিত না হয়ে বা সেটিকে আঘাত না করে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত। তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গ্রামীণ জনপদে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।