পুণ্যভূমি ডেক্স
মে / ১৬ / ২০২৬
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান সংগ্রহ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল ২৬ এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ১৮ রানে অপরাজিত থেকে বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন।
সকালে টস জিতে কুয়াশা আর আর্দ্রতার সুবিধা নিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় বলেই পাকিস্তানি পেসার মুহাম্মদ আব্বাসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
শুরুতেই ধাক্কা খাওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন মুমিনুল হক এবং এই ম্যাচেই বাংলাদেশের ১০৯তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হওয়া তানজিদ হাসান তামিম। দুজনে মিলে শুরুর চাপ সামলে ৫৮ বলে ৪৪ রানের একটি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। অভিষিক্ত তানজিদ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই খেলছিলেন, মারেন দারুণ কিছু বাউন্ডারিও। অন্যপ্রান্তে মুমিনুলও ছিলেন বেশ সংযত।
তবে ইনিংসের ১০ম ওভারে ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পাকিস্তানি পেসার হাসান আলীর বলে স্কয়ার ড্রাইভ করতে গিয়ে বল সোজাসুজি চলে যায় বোলার বরাবর। হাসান আলী ডানদিকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচটি লুফে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা ফসকে যায় এবং পিচের ওপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। বেশ কিছুক্ষণ পিচে শুয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম সেশনের শেষদিকে তিনি অবশ্য মাঠে ফিরেছেন।
হাসান আলীর চোটের পর উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া তানজিদ হাসান তামিম যেন হুট করেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। ১০ম ওভারের শেষ বলে মুহাম্মদ আব্বাসের একটি ভালো লেংথের বল অহেতুক আকাশে তুলে দিয়ে নিজের বলেই ক্যাচ দেন তিনি। ‘আত্মঘাতী’ শট খেলার আগে ৩৪ বলে ২৬ রান করেন এই তরুণ ওপেনার।
এরপর তিনে নামা মুমিনুল হকও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৬তম ওভারে খুররম শাহজাদের একটি ভেতরে ঢুকে পড়া চমৎকার ডেলিভারিতে লাইন মিস করে বোল্ড হন ৪১ বলে ২২ রান করা মুমিনুল। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ কাঁপছে, তখন দলের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ সেনানী নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন অবিচ্ছিন্ন ৩৮ রানের জুটি গড়ে মধ্যাহ্নভোজে যান।
পাকিস্তানের পক্ষে পেসার মুহাম্মদ আব্বাস ২টি এবং খুররম শাহজাদ ১টি উইকেট শিকার করেছেন।