পুণ্যভূমি ডেক্স
জুন / ৩০ / ২০২৬
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে এই বাজেট পাস হয়। আগামী ১ জুলাই (বুধবার) থেকে এই নতুন বাজেট কার্যকর হবে। গতবারের তুলনায় এবার বাজেটের আকার ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড।
নতুন বাজেটে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের বিপরীতে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৫৪ শতাংশ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৪৬ শতাংশ অর্থায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
বাজেট পাসের আগে সোমবার অর্থবিল ২০২৬ পাস হয়, যেখানে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা। এছাড়া আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের বিতর্কিত সুযোগটি বাতিল করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবটিও বাতিল করা হয়েছে।
নির্দিষ্টকরণ আইন ২০২৬ পাসের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থ বিভাগে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগে ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন। সংসদ সদস্যরা ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ১৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব দিলেও, সময়ের প্রয়োজনে বিরোধীদলীয় নেতা তা প্রত্যাহার করে নেন, ফলে মঞ্জুরিগুলো দ্রুত পাস হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্দিষ্টকরণ বিলটি উত্থাপন করেন। এই বিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকার অনধিক পরিমাণ অর্থ সংযুক্ত তহবিল হতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ বিভিন্ন দায় হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।