পুণ্যভূমি ডেক্স
মে / ২৮ / ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এমন সামরিক স্থাপনা ও ড্রোন, যেগুলো মার্কিন বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছিল। চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর রয়টার্সের।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী একাধিক ইরানি ড্রোনও ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ইরানের কোনো নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরানও।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহণ হওয়ায় সেখানে যে কোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালানোর পর অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। তিন মাস ধরে চলা এই সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
নতুন হামলার খবর প্রকাশের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল তদারকি করবে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে। তার এই মন্তব্যের পরপরই নতুন হামলার তথ্য সামনে আসে।
সবশেষ গত সোমবার (২৫ মে) ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন ইরান অভিযোগ করে, ওই হামলা দুই দেশের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল এমন নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, যেগুলো মাইন পেতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছিল এবং মার্কিন সেনাদের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।