পুণ্যভূমি ডেক্স
অগাস্ট / ২৪ / ২০২৬
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ফের ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। দেড় মাস আগে ভেঙে যাওয়া বাঁধের স্থানটি পুরোপুরি মেরামত না হওয়ায় শনিবার রাতের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে গতকাল রোববার সকালে সেখানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে একই এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় শত শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করলেও কাজের গতি নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। তাদের অভিযোগ ছিল, সংস্কারকাজে ধীরগতি ও অনিয়ম হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সময়মতো বাঁধ মেরামত এবং স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া হলে একই জায়গায় আবারও ভাঙনের ঘটনা ঘটত না। কিন্তু দেড় মাসেও ভাঙনস্থলের কাজ শেষ না হওয়ায় উজানের ঢলের পানিতে বাঁধটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে একের পর এক গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং নদীর পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্কও বাড়ছে।
প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ চরহামুয়া, উত্তর চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, সুঘর, আদ্যপাশা, নোয়াবাদ, হাতিরথান, কটিয়াদি, বৈদ্যের বাজার, বনগাঁও ও দক্ষিণ বনগাঁওসহ অন্তত ২০টি গ্রাম। এসব এলাকার ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। একই সঙ্গে পুকুর ও ফিশারিগুলোও বানের পানিতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ আলী বলেন, দেড় মাস আগে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। তখন মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার একই জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে। তার অভিযোগ, ভাঙনস্থল মেরামতের কাজে ধীরগতি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি বাড়তে থাকায় শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন স্থানীয়রা। অনেকের চোখের সামনেই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি।
এদিকে রোববার বিকেল ৩টার দিকে ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কেও পানি উঠে যায়। পানি আরও বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, বল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।