নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর / ০৮ / ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন)।
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য।
তিনি ১৯৪৩ সালে কুমিল্লার মুরাদনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে তিনি যুক্তরাজ্যের লিঙ্কনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দুবার লিঙ্কনস ইন স্টুডেন্ট সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
তিনি আইয়ুব খানবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন। ছাত্র শক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৮ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সফরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আয়োজক 'অ্যাকশন বাংলাদেশ'-এর অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
১৯৭৮ সালে প্রচার সম্পাদক হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দলের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ৫ম জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত স্বল্পকালীন সরকারে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর তার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে হাইকোর্ট কর্তৃক বিহারী জনগোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার মামলায় তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন।
তার স্ত্রী অধ্যাপক শাহিদা রফিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
২০১৮ সাল থেকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও শয্যাশায়ী ছিলেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।