নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর / ২৪ / ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় অবস্থিত 'সুমি মেক ওভার অ্যান্ড এসথেটিক লেজার' নামক একটি বিউটি পার্লারে এক গ্রাহককে হেনস্তা, মারমুখী আচরণ এবং জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সনিয়া নামে এক কর্মচারির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গ্রাহক পুলিশ ডাকলে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে পার্লার মালিক নিজের কর্মচারি সনিয়াকে দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চাওয়াতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত হেয়ার কাটার সনিয়া এবং পার্লারের ম্যানেজারকে চাকরি থেকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার(২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সেবা নেওয়ার জন্য ওই গ্রাহক মির্জাজাঙ্গালের 'সুমি মেক ওভার'-এ যান। সেখানে কর্মরত হেয়ার কাটার সনিয়া নামের এক কর্মী কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গ্রাহকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে চুল কেটে ফেলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে সনিয়া ও পার্লারের ম্যানেজার ওই গ্রাহকের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে মারমুখী আচরণ শুরু করেন।
পার্লার কর্তৃপক্ষের এমন আক্রমণাত্মক ও অপেশাদার আচরণে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়।
পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। ঘটনার সত্যতা ও পার্লার কর্মীদের দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তোপের মুখে পড়েন পার্লার কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে পার্লারের মালিক সুমি বেগমের স্বামী নাসির নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং তার কর্মচারিদ্বয়কে দিয়ে উপস্থিত সবার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকের কাছে পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ান।
একই সাথে পার্লারের সুনাম ও সেবার মান ধরে রাখার স্বার্থে এবং এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শাস্তি হিসেবে অভিযুক্ত হেয়ার কাটার সনিয়া এবং দায়িত্বে থাকা ম্যানেজারকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেয় পার্লার কর্তৃপক্ষ।
এই বিষয়ে কোতোয়ালি থানার দায়িত্বরত পুলিশ এস আই আব্দুল মুনিম জানান, "খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে পার্লার কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করেছেন এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। অভিযুক্ত দুই কর্মীকে বরখাস্তের মাধ্যমে বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে।"
এদিকে এই ঘটনার পর নগরীর সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকেরা বলছেন, নামী পার্লারগুলোর সেবার নামে এমন মস্তানিসুলভ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত।