প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ডিসেম্বর / ২৪ / ২০২২
প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মারপিট ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ করে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বলে দাবি করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও (হাওয়াপাড়া) গ্রামের মকবুল আলীর স্ত্রী রেহেনা বেগম। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে রেহেনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন একই গ্রামের মৃত হারিছ উল্লাহর পুত্র শাহিদ আলী, আমিন উল্লাহর পুত্র মোজাহিদ আলী, জাহির আলীর স্ত্রী শাফিয়া বেগম, আরিজ উল্লাহর পুত্র জাহির আলীর সাথে রাস্তা নিয়ে আমার স্বামী মকবুল আলীর বিরোধ চলে আসছে। তাদের অব্যাহত অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আমি বিশ্বনাথ থানায় একটি সিআর-৬/২০২২ মামলা দায়ের করি। মামলা দায়েরের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২১ নভেম্বর আমি ও আমার স্বামী বাড়িতে না থাকায় আমার মেয়ে সাদিয়া আক্তার ও ঝুমা আক্তারকে সংঘবদ্ধভাবে বেধড়ক মারধর করে ওই চক্রে। তাদের মারধরের কারণে গুরুতর আহত ঝুমাকে সপ্তাহ খানেক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে বাড়িতে নিয়ে আসি। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত সাদিয়ার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। বিভিন্নজনের সহযোগিতায় সাদিয়ার চিকিৎসা চলমান থাকলেও সে এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এমতাবস্থায় আমি সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে সিআর ৫৯৩/২০২২ মামলা দায়ের করি।
প্রতিপক্ষ মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর এ মামলার ২, ৩ ও ৫ নং আসামি কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসে আমার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে অবিরত প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে। আমার বাড়িতে আসা-যাওয়ার সরকারি রাস্তায় চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে শাহিদ আলী গংরা। যে কারণে দশঘর এনইউ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুমা আক্তার এবং দশঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী অলিউর রহমান মাছুম তাদের স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা করতে রাস্তা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোন উপায় না পেয়ে আমি বাধ্য হয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ দায়ের করি এবং বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে একটি সাধারণ ডায়রি করি। মামলা, অভিযোগ ও জিডি করার কারণে শাহিদ আলী ও তার সহযোগীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। গত ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিলেট নগরীর সুরমা মার্কেটের সামনে শাহিদ ও তার সহযোগীরা আমার পথ আটকিয়ে অশ্লিল ভাষায় গালিগালজসহ ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। আমি সে সময় উপস্থিত পথচারীদের কারণে প্রাণে রক্ষা পাই। এ ঘটনায়ও আমি সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। জিডি করার পর গত ১৫ ডিসেম্বর শাহিদ আলীকে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। শাহিদ আলী গ্রেফতার হওয়ার পরও অন্য প্রতিপক্ষরা আমাকে নিয়মিত হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে আসছে। এমনকি আমাদের চলাফেরায় মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।
রেহেনা বেগম তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের ইশারায় আমার গ্রামের মোঃ জাহির আলীর স্ত্রী মোছাঃ সাফিয়া বেগম আমি ও আমার স্বামীকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। দীর্ঘদিন শুনানী শেষে আদালত এ মামলা থেকে আমাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেন। শুধু তাই নয়, এসব চক্র আমাদের উপর একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ এবং মামলা দায়ের করে আমাদেরকে হয়রানি করে যাচ্ছে। আমি এসব বিষয়ের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সহযোগিতা পায়নি।
নিজেকে নির্যাতিত, নিপিড়িত, সহায়-সম্বলহীন ও অসহায় দাবি করে তার পরিবারের নিরাপত্তা প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।