সংগৃহিত
মার্চ / ২৯ / ২০২৬
এদেশে কিংবদন্তি উপস্থাপক যদি কাউকে বলতে হয়, তাহলে সর্বাগ্রে যাঁর নামটি আসবে তিনি হেনা কবির। পাঁচ দশকের অধিককাল তিনি তাঁর সুকণ্ঠ উপস্থাপনায় ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ করে রেখেছেন তৎকালীন রেডিও পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ বেতারকে। লাখো-কোটি বেতার শ্রোতা বছরের পর বছর মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেছেন তাঁর অনন্য উপস্থাপনাশৈলী।
হেনা কবির শুধু বাংলাদেশ বেতারেরই নিয়মিত উপস্থাপক-ঘোষক ছিলেন না; বাংলাদেশ টেলিভিশনেরও প্রথম উপস্থাপক। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর তাঁর সুকন্ঠ উপস্থাপনার মধ্যদিয়ে এদেশে টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু হয়। বেতার নাটকের অভিনয়েও তিনি অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে শরৎচন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে রচিত দেবদাস নাটকে চন্দ্রমুখী চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় সেকালের শ্রোতাদের মনে বোধকরি এখনো স্মরণীয় হয়ে আছে।
শুধু উপস্থাপনা ও নাটকই নয়, শুদ্ধ সংগীতের প্রচার-প্রসারেও তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। উপমহাদেশের তাবড়-তাবড় শিল্পীদের এদেশে এনে নিজস্ব উদ্যোগে একাধিকবার আয়োজন করেছেন আন্তর্জাতিক সংগীত সম্মেলন। তাঁর নিজহাতে গড়া সংগঠন সেতুবন্ধের মাধ্যমে চালিয়েছেন নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। সম্মাননা জানিয়েছেন বহু গুণীজনকে। ছিলেন শিক্ষা উদ্যোক্তাও। আমৃত্যু শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আজ অতীব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, এদেশে কত কত মানুষকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়। কখনো কখনো অখ্যাত ও অগুণীরাও রাষ্ট্রীয় পদক বা সম্মাননা পান। এসব নিয়ে নিন্দামন্দও কম হয় না। অথচ একজন প্রকৃত গুণী ও সুবিখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হেনা কবির জীবদ্দশায়তো কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান-সম্মাননা পানইনি; এমনকি মৃত্যুর দেড় দশক পরও তাঁর ভাগ্যে তেমন কিছুই জুটেনি। এ বড়ই পরিতাপের বিষয়!
গুণী এই মানুষটির অম্লান স্মৃতির উদ্দেশে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও অপরিসীম ভালবাসা।