পুণ্যভূমি ডেক্স
এপ্রিল / ২২ / ২০২৬
বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুরের বড়গাঙ নদী। কিন্তু নদীতে মনযোগ নেই ইজারাদারের। নদীর পরিবর্তে চলছে তীর কেটে বালু উত্তোলনের মচ্ছব। বালুখেকোদের থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বসতবাড়ি, ফসলি জমি, কবরস্থান। তীর কেটে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকিতে পড়েছে বেড়িবাঁধ।
বালুমহালের ইজারাদার সিদ্দিক আলীর ‘স্লিপ’ দিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু বৈধ হয়ে যাচ্ছে। রাত-দিন এভাবে অবৈধপন্থায় বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসন অভিযানের নামে দায়সারা দায়িত্ব পালনে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আর স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। এছাড়া ইজারাদারকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৪৩২ বাংলা সনে জৈন্তাপুরের বড়গাঙ নদীর নির্দিষ্ট বালুমহাল ইজারা নিয়েছিল সানি-সোহা এন্টারপ্রাইজ। ইজারা নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানটির মালিক চন্দন তালুকদার স্থানীয় প্রভাবশালী বালুখেকো চক্রের সাথে আঁতাত করে নদীর পাশাপাশি দুই পাড় কেটে বালু উত্তোলন শুরু করেন। ইজারার শর্ত অনুযায়ী নদীর মাঝখান থেকে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কথা।
কিন্তু ইজারাদার এই শর্ত লঙ্ঘন করে নদীর দুইপাড় কেটে বালু উত্তোলন শুরু করেন। এ নিয়ে প্রশাসন কয়েকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করে। কিন্তু অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। ওই সময় সানি-সোহা এন্টারপ্রাইজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় দেখাশোনা ও প্রতিনিধিত্ব করতেন জনৈক সিদ্দিক মিয়া। ১৪৩৩ বাংলা সনে বালুমহালটির ইজারা পেয়েছেন সিদ্দিক মিয়া। তিনিও একইভাবে তীর কেটে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, বড়গাঙ নদীর দুই তীরের উপরিভাগের মাটির কয়েক ফুট নিচে গেলেই গভীর বালুস্তর রয়েছে। তাই বালুখেকোরা নদীগর্ভ বাদ দিয়ে তীর কেটে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে তাদের শ্রম ও সময় কম লাগছে। স্থানীয়রা আরও জানান, সিদ্দিক মিয়ার সাথে স্থানীয় আরও ২০-২২ জন বালু উত্তোলনে জড়িত রয়েছেন। তারা শ্রমিক লাগিয়ে তীর কেটে বালু উত্তোলন করেন।
প্রতি নৌকা বালু থেকে আদায় করা হয় ১৫০০ টাকা। এর মধ্যে সিদ্দিক মিয়া ৮০০ টাকা নিয়ে ইজারাদারের স্লিপ দেন। আর বাকি ৭০০ টাকা নেন বালুখেকো চক্রের সদস্যরা। ইজারাদার সিদ্দিক মিয়ার স্লিপেই বৈধ হয়ে যায় অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু। এভাবে প্রতিদিন পরিবেশ ধ্বংস করে লাখ লাখ টাকার বালু লুটে নিচ্ছে চক্রটি।
জানা গেছে, বড়গাঙের জাঙ্গালঘাট, খেয়াঘাট, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব, গোয়াবাড়ী, রূপচেং (পাতলা খাতার বাড়ি), গরুরঘাট এলাকায় নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর তীর কাটার কারণে স্থানীয়দের বসতবাড়ি, ফসলী জমি, কবরস্থান নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ। যে কোন সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ প্রসঙ্গে ইজারাদার সিদ্দিক মিয়া জানান, নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের সাথে তিনি জড়িত নন। স্থানীয় কিছু লোক এই কাজ করছে। নদী তীরবর্তী সরকারি জায়গা আগে থেকেই কিছু লোক দখল করে রেখেছিল। ওই লোকজনই তীর কেটে বালু কেনাবেচা করছে।
জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) পলি রানী দেব জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান করছে। ইজারাদারকে ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে নির্ধারিত বালুমহালের বাইরে থেকে বালু উত্তোলন করা না হয়।