শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী ও ‘শেখ রাসেল দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
এসময় উপাচার্য বলেন, আজ শেখ রাসেলের জন্মদিন থাকা স্বত্ত্বে আমাদের মধ্যে শোকের ছাঁয়া বিরাজ করছে। আমরা আড়ম্বরপূর্ণভাবে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারছি না। কারণ, একদল নিষ্ঠুর মানুষ এই দিনটিকে কলংকিত করেছে। আমরা শেখ রাসেলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
বঙ্গবন্ধুর পাঁচ সন্তানের মধ্যে শেখ রাসেল ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। বড় চারবোন তাকে খুব আদর করতেন। শেখ রাসেল সবার চোখের মণি ছিল। বঙ্গবন্ধুর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই জেলে কাটিয়েছেন। তিনিও শেখ রাসেলকে খুব আদর করতেন। তবে জেলে থাকায় তেমন একটা সুযোগ পান নি। যখন রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে দেখতে যেতেন তার পরিবার। তখন সে বঙ্গবন্ধুর কোল থেকে আসতে চাইতো না।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে দুর্বার আন্দোলনের মুখে যখন আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো। তখন তিনি বাড়িতে ফিরে আসলেন। শেখ রাসেলকে আদর করার সুুযোগ পান। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরলে আবার তাকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেলেন। ১৫ আগস্ট ঘাতকের গুলিতে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হলেন সেই সুযোগটাও বেশিদিন থাকে নি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম। এসময় আরো বক্তব্য দেন ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদার এপ্লাইড সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল গণি প্রমুখ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু চত্বরে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন ও পৌনে ১১টায় একাডেমিক ভবন ‘এ’ এর সামনে বৃক্ষরোপন করা হয়।