পুণ্যভূমি ডেক্স
সেপ্টেম্বর / ১৫ / ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকে। ট্রাইব্যুনালের এই রায়ে পাঁচজন অপরাধীদের অর্জিত সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে তা শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে হলফনামা অনুসারে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পত্তির হিসাব এখানে দেওয়া হলো। তবে শেখ ফজলে শামস পরশ নির্বাচনে অংশ নেননি। তার হলফনামা না থাকায় সম্পত্তির হিসাব পাওয়া যায়নি।
যাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের সম্পদের বিবরণ ও বিবরণী নিচে তুলে ধরা হলো;
কাদেরের কত সম্পদ
‘ডামি নির্বাচন’ নামে পরিচিত ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫) হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তার ঘোষিত সম্পদের তথ্য জানা যায়।
ওবায়দুল কাদের দেখিয়েছিলেন, তার হাতে আছে নগদ ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র আছে প্রায় দেড় কোটি টাকার। গাড়ি একটি, যার দাম ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার দাম ওবায়দুল কাদের দেখিয়েছিলেন দেড় লাখ টাকা। তার ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে বলে হলফনামায় দেখানো হয়েছিল।
সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ওবায়দুল কাদেরের স্থাবর সম্পদ হিসেবে শুধু ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমি দেখানো হয়েছে। এই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
নাছিমের কত সম্পদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঢাকা–৮ আসন থেকে অংশ নিয়েছিলেন। হলফনামা অনুযায়ী, নাছিমের হাতে নগদ টাকা ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ। ব্যাংকে ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ। বিভিন্ন কোম্পানিতে তার মালিকানা, অর্থাৎ শেয়ার এবং বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৬০ লাখ টাকার। তার দুটি গাড়ি আছে, যার দাম প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার দাম তিনি সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। ইলেকট্রনিস সরঞ্জাম ও আসবাবের দাম তিনি দেখিয়েছেন সোয়া ১০ লাখ টাকা।
নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। নাছিমের স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। তার অকৃষি জমি রয়েছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে; পরিমাণ ১৫৩ শতাংশ। জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
ঢাকার উত্তরায় নাছিমের একটি ভবন রয়েছে। তার দাম ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ঢাকার মিরপুরে তার একটি ফ্ল্যাট আছে। যার দাম ৪৫ লাখ টাকা। নাছিমের মোট স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার।
আরাফাতের কত সম্পদ
মোহাম্মদ আলী আরাফাত ঢাকা–১৭ আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেন। এরপর আরাফাত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী হন।
আরাফাতের নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। হলফনামায় এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার নামে অন্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আরাফাতের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ শেয়ারে। নয়টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে তার নামে, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। সব মিলিয়ে আরাফাতের নিজের নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
নিখিলের সম্পদে জমি, গাড়ি ও এফডিআর
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় স্থাবর সম্পদের তালিকায় কৃষি ও অকৃষিজমির তথ্য রয়েছে। একটি কৃষিজমি প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
নিখিলের তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে তার ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআরও (ব্যাংকে স্থায়ী আমানত) রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তার তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। নিখিলের সাড়ে ৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
এই রায়ে দণ্ডিত যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশের সম্পত্তির একটি অংশও বাজেয়াপ্তের তালিকায় রয়েছে, তবে ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ক্ষেত্রে আদালত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেননি।