সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
জুলাই / ৩০ / ২০২২
বাংলাদেশে ঢাকার বাহিরে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সিলেটে এই প্রথম সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে "শিশু হৃদরোগ ইউনিট” চালু” হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভ‚ঁইয়া এবং হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মোখলেছুর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মইনুল হকের সহযোগীতায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু হৃদরোগ ইউনিট গত রবিবার(২৪ জুলাই) থেকে পরীক্ষমূলক ভাবে চালু হয়েছে।
এতে জরুরী চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং শিশু হৃদরোগীর সার্জারী, ইন্টারভেনশন ও অন্যান্য চিকিৎসার ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেয়া হবে। এছাড়া সার্জারী ও ইন্টারভেনশন পরবর্তী ফলোআপ সঠিকভাবে করা হবে। এই সময় তাঁরা বলেন, শিশু হৃদরোগ বা জন্মগত হৃদরোগ নতুন কোন সমস্যা নয়। পূর্বেও এ রোগ ছিল। তবে যথাযথ রোগ নির্ণয়ের অপ্রতুলতার জন্য এটি সনাক্ত ও চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হত না। গবেষনায় দেখা গেছে যে, বিশ্বে প্রতি একহাজার শিশুর মধ্যে নূনতম ৮ জন জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়। বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যে এই রোগ বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত তথ্যমতে বিশ্বে হৃদরোগ নিয়ে জন্মানো শিশুর মধ্যে শতকরা ৬ ভাগ বাংলাদেশে। সাধারনত বংশগত বা পরিবেশগত কারনে জন্মগত হৃদরোগ হয়ে থাকে।
উল্লেখযোগ্য শিশু হৃদরোগের মধ্যে হলো জন্মগত পর্দায় ছিদ্র, ভাল্বের সমস্যা, রক্তনালির উল্টাপাল্টা সংযোগ, বাতজ্বর, হৃদপিন্ডের প্রদাহ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হৃদপিন্ড বড় হয়ে যাওয়া ও হার্ট ফেইলর। শিশু হৃদরোগের অনেক উপসর্গ আছে যার মধ্যে দুধ খাওয়ার সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হওয়া, ঘনঘন ঠান্ডা লাগা, জ্বর বা কাশি হওয়া, দ্রæত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং বুকের পাজর বা খাঁচা দেবে যাওয়া, হৃদস্পন্দন দ্রæত হওয়া এবং শিশুর ঠোট, জিহŸা, নীলাভ হওয়া বা কান্নার সময় নীল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
আধুনিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে সঠিক সময়ে এই রোগের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এই সব প্রায় সম্পুর্ন সুস্থ হয়ে যায়। সচেতনতার অভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক হৃদরোগীদের ব্যাপারে যত দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব শিশু হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে ততটা দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া হয়না। জন্মগত হৃদরোগ ছাড়াও ইনফেকশন এবং অন্যান্য কারনে শিশুদের হৃদরোগ হয়ে থাকে। শারীরিক পরীক্ষা, এক্সরে, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম প্রভৃতি পরীক্ষা পদ্ধতি দ্বারা শিশুদের হৃদরোগ শনাক্ত করা যায়। বর্তমানে শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা শহরে শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা বিদ্যমান। এতে বিভাগীয় শহরের রোগীরা চিকিৎসা সেবা পেতে ঢাকা যাওয়া ছাড়া কোন বিকল্প থাকেনা ফলে চিকিৎসা ব্যয় ও বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মত সিলেট বিভাগে শিশু হৃদরোগীদের জন্য সরকারী বা বেসরকারীভাবে আলাদা কোন হাসপাতাল, ওয়ার্ড/ইউনিট এতদিন যাবৎ ছিল না। এতে সঠিক দিক নির্দেশনা না পেয়ে বেশীর ভাগ রোগীকে ঢাকা বা দেশের বাইরে যাওয়ার ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যা গরীব রোগীদের পক্ষে সম্ভব হয় না।