পুণ্যভূমি ডেক্স
জুলাই / ১২ / ২০২৬
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের একাধিক জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বর্তমানে ৩টি নদীর ৫টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশনে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
কেন্দ্রটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপরে উঠে যেতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুলাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দুটি নদীরই পানি বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা তীরবর্তী এলাকার বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি সুরমা নদীসংলগ্ন এলাকাতেও নতুন করে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমতে পারে। ফলে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর পৃথক এক ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রোববার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে ১৮৭ মিলিমিটার, মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুলে ১৭২ মিলিমিটার, ঢাকায় ১৩৫ মিলিমিটার, ভৈরবে ১৩০ মিলিমিটার, নরসিংদীতে ১২৪ মিলিমিটার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২০ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের সোহরায় ১৬৮ মিলিমিটার, আসামের গোহাটিতে ১২০ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা উজানের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দেশের কয়েকটি অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক, প্রাক-নির্বাচনি ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আজ দুপুরে ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহরীন খান রূপা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষা স্থগিত করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা স্থগিত করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেক প্রতিষ্ঠানই পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।