নিজস্ব প্রতিবেদক
মে / ৩১ / ২০২৬
আবু তালেব মুরাদঃ
১৯৮১ সালের ৩০ মে আজ থেকে ৪৫ বছর আগের কথা।
ঐদিন ২৯ মে দিবাগত রাত অর্থাৎ ৩০ মে ,তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিদ্রোহী সেনা সদস্যের আকস্মিক হামলায় তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন।
ঘটনাটি ৩০ মে সকাল সাড়ে দশটার দিকে সিলেট জিন্দাবাজার জালালাবাদ মার্কেট জনতা ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারলাম, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। উক্ত দিন আমার তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশ সিলেট কেন্দ্রে বিকেল ৪ টা থেকে রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত টিলাগড় ট্রান্সমিটারে দ্বিতীয় অধিবেশনের অনুষ্ঠান ঘোষণার দায়িত্ব ছিলো।উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনার পর বিকেল সাড়ে ৩ টায় বাসায় গাড়ী এলো, গেলাম টিলাগড় আমি এবং ডিউটি অফিসার আব্দুল মতিন সাহেব,আমার সাথে যে ঘোষিকার ডিউটি ছিলো গাড়ী দিয়ে তার বাসায় যাওয়ার পর ওর বাবা বের হয়ে জানালেন সে ডিউটিতে যাবেনা। টিলাগড় ট্রান্সমিটার ভবনের গেইটে পৌঁছার পর দেখলাম রেডিওর গেইটের সামনে ৭-৮ জন সেনাবাহিনী।পরিচয় প্রদানের এবং পরিচয় পত্র দেখানোর পর অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন শেষে গাড়ী বাইরে রেখে সেনাবাহিনীর ২ জন আমাদেরকে ভেতরে নিয়ে গেলো।সেনা বাহিনীর দায়িত্বে যিনি ছিলেম তার নাম ছিলো লে: কর্নেল মঞ্জুর। পরিচিত হলাম।আমাদেরকে বলা হলো চট্টগ্রাম রেডিও, বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের দখলে সেখানেও যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার নামও কর্নেল মঞ্জুর। কিন্তু আমরা ঢাকার রীলে করবো,প্রকৌশল শাখার অনেকে ট্রান্সমিটারের ভেতরে থাকতেন, লে: কর্নেল মঞ্জুর বললেন উদ্ধোধনী ঘোষণা দিয়ে ঢাকার রীলে করতে হবে।আমি উদ্ধোধনী ঘোষনাটি লিখে ঐ সেনা কর্মকর্তাকে দেখানোর পর অনএয়ারে গেলাম।বিকেল সাড়ে ৪ টায় সেভাবেই হলো,শুরু হলো রীলে। পরবর্তীতে মাগরিবের আযানতো ঢাকা সিলেট ৬ মিনিটের ব্যবধান তাই সিলেট থেকে প্রচারিত হলো মাগরিবের আযান।ঘোষণা দেখাতে হলো লেঃ কর্নেল মঞ্জুরকে।এভাবে রীলে চলতে থাকলো ।মাঝখানে বটেশ্বর আর্মি ট্রেনিং সেন্টার থেকে খাবারও এলো ডালমাংস সাথে রুটি।আমরাও খেলাম।
এই সময়টাতে লেঃ কর্নেল মঞ্জুরের সাথে কথাবার্তা বলার কারনে অনেকটা কাছাকাছি যেতে পারলাম তারপরও ভালই আতংকের মধ্যে ছিলাম।
খাওয়া শেষে একজন সহকর্মী প্রকৌশলীর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে জানালাম যে ট্রেন্সমিটার থেকে ইচ্ছা করলে চট্টগ্রাম কি হচ্ছে না হচ্ছে শুনা যাবে,বললো আসেন শুনি,শুনলাম কি প্রচার করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা ক্লোজ ডাউন করবে রাত সাড়ে ১১ টায়, সাথে সাথে আমরাও দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষনা দিবো, কিন্তু ঢাকা কন্টিনিউ করলো।সমাপ্তি ঘোষণা দিলো রাত ২ টার সময়।
তখন কিন্তু বাসায় টেলিফোন ছিলোনা, সে কারনে বাসার সাথে কোন যোগাযোগ নাই।মা আমার আছেন অনেক টেনশনে।সবকিছু গুছিয়ে টিলাগড় থেকে বাসার উদ্যেশ্যে রওয়ানা হলাম রাত আড়াইটায়, পৌছে দিলো সেনাবাহিনীর গাড়ী দিয়ে।শুনলে আপনারাও অনুধাবন করতে পারবেন "মা"কি জিনিস!আমার বাসা কুয়ারপার এ যখন পৌঁছলাম, তখন ঘড়িতে রাত ৩ টা।দেখি আম্মা আমার বাসার গেইটি হাঁটাহাঁটি করছেন, কখন আমি ফিরি।আমাকে দেখেই বললেন "আইচ্ছো নিবা"।হায়রে মা যে কি।