জানুন বিশ্ব নাট্য দিবস কি এবং কেনো

পুণ্যভূমি ডেস্ক

মার্চ / ২৭ / ২০২৬

জানুন বিশ্ব নাট্য দিবস কি এবং কেনো
ad-spce

নাটক বা থিয়েটার সব সময় মানুষের মনে ও চেতনায় এক উচ্চ স্থান পেয়ে এসেছে। নাটক বলতেই আমাদের মনে আসে শেকসপিয়রের নাম। তাঁকে বলা হয় বিশ্বের অগ্রণী নাট্যকার। তবে নাটক মানে শুধু শেকসপিয়র নন, কালিদাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাদল সরকার, বিজন ভট্টাচার্য, দীনবন্ধু মিত্রের মতো অনেকের নামই আসে। ১৯৬১ সাল থেকে ২৭ মার্চকেই বিশ্ব থিয়েটার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউট (আইটিই) কর্তৃক ১৯৬১ সালে বিশ্ব থিয়েটার দিবসের প্রবর্তন হয়। প্ৰথম বিশ্ব থিয়েটার দিবসের আন্তর্জাতিক বাৰ্তা ১৯৬২ সালে ফ্রান্সের জিন কোকটিয়াও লিখেছিলেন। প্ৰথমে হেলসিঙ্কি এবং তারপর ভিয়েনায় ১৯৬১ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত আইটিইর নবম আলোচনাসভায় আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিটিউটের ফিনিশ কেন্দ্রের পক্ষে অধ্যক্ষ আর্ভি কিভিমায় বিশ্ব থিয়েটার দিবস উদযাপনের প্রস্তাব দেন। 


তবে বাংলা নাটকের সূত্রপাত যতটা এই সংস্কৃত নাটক থেকে উদ্বুদ্ধ, ঠিক ততটাই অনুপ্রেরণা দিয়েছে বিদেশি থিয়েটার। নাটকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে 'যাত্রা'ও। উনিশ শতকে যখন বাংলা নাটক তৈরি হচ্ছে সে সময় 'যাত্রা' আগে থেকেই পসরা সাজিয়ে রেখেছে। তবে 'যাত্রা'র ইতিহাস কুয়াশাচ্ছন্ন। নাটক ছাপিয়ে গিয়েছে সব উচ্চতা। নাটকেই লোকশিক্ষে হত। আধুনিক বাংলা নাটকের সূচনা হয় ১৮৫২ খ্রীষ্টাব্দে। সে সময় বিদেশি নাটকের অনুবাদের পাশাপাশি মৌলিক নাটকও রচিত হয়। ১৮২২-এর অনূদিত সংস্কৃত প্রহসন প্রবোধচন্দ্রদয়, শকুন্তলা, রত্নাবলীর মতো। তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' ও জিসি গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস' দুটি মৌলিক নাটকের প্রকাশ হয় ১৮৫২ তেই। বিচিত্র বিষয় ভাবনা নিয়ে তৈরি হয় শেকসপিয়রের অনুসরণে হরচন্দ্র ঘোষের, 'ভানুমতী চিত্ত বিলাস (১৮৫২), কালীপ্রসন্ন সিংহের 'বাবু নাটক' (১৮৫৪), উমেশচন্দ্র মিত্রের 'বিধবাবিবাহ নাটক' (১৮৫৬) রীতিমতো হইচই ফেলেছিল। এ সময়ের অন্যতম নাট্যকার ছিলেন রামনারায়ণ তর্করত্ন। তিনি তাঁর নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব'-তে যেভাবে সে সময়কার সমাজকে তুলে ধরেছিলেন, তা আগে দেখা যায়নি। এরপর দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' সে সময়কার নীলচাষীদের সমস্যার কথা তুলে ধরে নজির গড়ে। যদিও এই নাটক কিছুটা পরের দিকের।


তবে নাটকের মধ্য দিয়েই উঠে আসতে থাকে তদানিন্তন সমাজের সমস্যার কথা। কখনও কৌতূকের ছলে, আবার কখনও কঠিনরূপে। নাটককে ভেঙে নানা রূপ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ফিউশনও তৈরি করা হচ্ছে। ভারত শুধু নয় গোটা বিশ্বের ইতিহাসে নাটকের একটি আলাদা মর্যাদা রয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে বাংলা নাটকের পরিস্থিতি অনেকটাই ভঙ্গুর। নাটকের সঙ্গে মানুষের রুটি রোজগার যোগ হয়েছে। সাহিত্য থেকে বেরিয়ে এসে কড়া বাস্তবের মুখোমুখি নাটককে বারবার দাঁড়াতে হয়েছে। জীবন-জীবিকা শুধু মাত্র নাটকেই আটকেছে অনেক শিল্পীর। টিভি, সিনেমার জগতে কোথাও যেন নাটকের গতিতে টান পড়েছে।  তৈরি হয়েছে আর্থিক সমস্যা। তবুও সিনেমা বা সিরিয়াল কখনই থিয়েটারের জায়গা নিতে পারেনি। বলা হয় একজন থিয়েটার অভিনেতা এতটা দক্ষ হন, যে সব মাধ্যমেই তিনি মানানসই। আজ বিশ্ব থিয়েটার দিবস সব নাট্য শিল্পীদের কাছে বিশেষ আনন্দের। বিভিন্ন নাটকের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনে সম্মান জাননো হয় সকল নাট্য শিল্পীদের। গোটা পৃথিবীতে শিল্পের যত রূপই থাকুক না কেন, নাটকের মর্যাদা সব সময় উচ্চস্তরে।

ad-spce

শিল্প ও সাহিত্য

ad-spce

সর্বশেষ আপডেট

জানুন বিশ্ব নাট্য দিবস কি এবং কেনো

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

দুর্দশায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী, সেনাপ্রধানের জরুরি সতর্কবার্তা

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

১০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দেশে এলো আরও একটি জাহাজ

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার রূপ দিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গণদাবী ফোরামের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান অনন্য : সিসিক প্রশাসক

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সংকটময় সময়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরেছিলেন : এমরান আহমদ এমপি

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ad-spce