পুণ্যভূমি ডেক্স
এপ্রিল / ২৮ / ২০২৬
যুদ্ধ বন্ধ এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে ইরান যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, প্রস্তাবে পরমাণু ইস্যুকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি উত্তেজনা কমাতে তিন ধাপের একটি নতুন প্রস্তাব দেয় তেহরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের নতুন প্রস্তাবে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথা বলেছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ আগে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে তেহরান।
ইরানের নতুন প্রস্তাবের প্রথম ধাপে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ইরান ও লেবাননে কোনো আগ্রাসী হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।
দ্বিতীয় ধাপে, প্রথম শর্তগুলো মানা হলে, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে, পূর্বের দুই ধাপের অগ্রগতি হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এরপর দ্বিতীয় দফা সংলাপের আহ্বান জানায় পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনায় রাজি হলে পরবর্তী সংলাপ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে।
মার্কিন অবরোধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের তেলবাহী একাধিক ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনাকে ইরান ‘সমুদ্রপথে জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র কয়েকটিতে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এদিকে দেশে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে ইরান ধাপে ধাপে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে- প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ, এরপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং শেষে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় শিগগিরই এই সংঘাতের সমাধান হওয়া কঠিন হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স