পুণ্যভূমি ডেস্ক
মার্চ / ৩০ / ২০২৬
মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সেগুনসহ মূল্যবান বনজ কাঠ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া লাউয়াছড়াতে মূল্যবান সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চুরির ঘটনাও ঘটছে। বিভিন্ন সময় বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা এসব চোরাই কাঠ উদ্ধার করে সংরক্ষণ করলেও অযত্নে নষ্ট হচ্ছে সেগুলো। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
কাঠ সংরক্ষণের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে দেখা যায়, রোদ-বৃষ্টিতে সেগুলো স্তূপ আকারে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাটি স্পর্শ করে পড়ে থাকার ফলে কাঠগুলোতে পচন ধরছে। এখন পর্যন্ত এ পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সূত্র জানায়, মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে লাখ লাখ টাকার কাঠ এভাবে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হলেও স্থানসংকট ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার কারণে তা হয়ে ওঠে না। ফলে মামলার জট কাটিয়ে কাঠ সরিয়ে নিতে যে সময় লাগে, ততদিনে সেগুলো পচে যায়। এতে বন হারাচ্ছে গাছ, আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। কারণ পচে যাওয়া কাঠ সরকারের কোনো কাজেই আসছে না।
শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কসংলগ্ন এলাকায় গেলে চোখে পড়ে বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত অরণ্যাঞ্চল। এ বনভূমির প্রায় সাড়ে ১২শ হেক্টর চিরহরিৎ বনাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। সেখানে রয়েছে সেগুন, চাপালিশ, আগর, পিতরাজ, কড়ই, গর্জন, নাগেশ্বর, জাম, অর্জুনসহ নানা প্রজাতির গাছ।
চোরচক্র বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির নজরদারির ফাঁক গলিয়ে বনে হানা দেয় গাছ চুরির লক্ষ্যে। বন বিভাগের টহল দলের নাগাল এড়াতে তারা নানা সময় কৌশল বদলায়।
এসব চোরাই গাছ থেকে পাওয়া কাঠ বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন সময় চক্রের সদস্যরা ধরা পড়লেও মূলহোতারা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এসব চোরাই গাছ বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত কাঠ উদ্ধার দেখিয়ে বন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। উদ্ধার করা কাঠ জব্দ তালিকা করে লাউয়াছড়া বিট এবং সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয় (এসিএফ), শ্রীমঙ্গল অফিসের সামনে রাখা হয়।
বন বিভাগসংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অবৈধভাবে কেটে নেওয়া কাঠ উদ্ধার করে জব্দ দেখিয়ে চোরচক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব কাঠ মাসের পর মাস উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। রোদ-বৃষ্টির ঝাপ্টা এবং দীর্ঘদিন মাটির সংস্পর্শে থাকায় কাঠ পচে নষ্ট হয়ে যায়।
মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নিলাম আহ্বান করার আগেই অধিকাংশ কাঠ অকেজো হয়ে পড়ে।
লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনা বেগম জানান, চোরাই কাঠ উদ্ধার, মামলা ও নিলাম দেওয়া বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। প্রয়োজনে এ কাজে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি সহযোগিতা করে থাকে। মাটিতে পড়ে থাকা কাঠ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সভায় আলোচনা করবেন বলে তিনি জানান।
লাউয়াছড়া বিট অফিসার মারজুক হোসেন বলেন, বিট অফিসের সামনে পড়ে থাকা সেগুনসহ অন্যান্য কাঠ কতদিন ধরে পড়ে আছে, তার সঠিক তারিখও অনেকের জানা নেই। মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিলাম হচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করবেন।