খড় পচে গো-খাদ্য সংকট, গরু পালনে বিপাকে দোয়ারাবাজারের খামারীরা

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

অক্টোবর / ১২ / ২০২২

খড় পচে গো-খাদ্য সংকট, গরু পালনে বিপাকে দোয়ারাবাজারের খামারীরা
ad-spce

বন্যার প্রভাবে ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং বৃষ্টিতে ধানের খড় সংরক্ষণ করে রাখতে পারেনি দোয়ারাবাজারের কৃষকেরা।

বিগত বন্যায় উপজেলার কৃষকেরা ধান সংরক্ষণের চেষ্টা করলেও এবছর জীবন বাঁচানোর তাগিদে খড় সংরক্ষণের চেষ্টা করেনি। এতে করে মাঠের মধ্যেই পচে নষ্ট হওয়াসহ বন্যায় ভেসে গেছে গবাদি পশুর প্রধান খাদ্য খড়। এ কারণে আমন ধান ঘরে তুলার আগ পর্যন্ত আগামী কয়েক মাসে গো-খাদ্যের চরম সংকটে থাকতে হবে বলে মনে করছেন খামারিরা।

কৃষকরা জানান, ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কবল থেকে ধান,ও খড়ের চেয়ে পরিবার পরিজনের জীবন বাঁচানোর দায় হয়ে পরেছিলো। তাই খড়ের দিকে নজর দেওয়ার সম্ভব হয়নি।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, কৃষকরা খড় সংরক্ষণ না করার কারণে আগামীতে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।

জানা গেছে, উপজেলাতে প্রায় অর্ধশতাধিক ছোট-বড় গরুর খামার রয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রত্যেক কৃষকই বাড়িতে গরু পালন করেন। বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মৌসুমি খামারিসহ ব্যবসায়ীরা গরু পালন করেন।

সরেজমিনে গত কয়েকদিনে উপজেলার বাংলাবাজার,পান্ডারগাঁও, লক্ষিপুর, বোগলাবাজার, নরসিংপুরসহ বেশ কয়কটি এলাকায় খড় সংকটের চিত্র লক্ষ করা গেছে।

উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা কৃষক ও গরু পালনকারী নুর মোহাম্মদ এবং মোঃ কিবরিয়া জানান, ধান কাটার মৌসুম শুরুর পর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিলো,বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যায় মানুষের জীবন বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পরেছিলো। এতে ধান সংরক্ষণ করাই সম্ভব হয়নি, তাই খড়ের প্রতি তাদের নজর নেই।  

তারা বলেন, কৃষকরা ধান ক্ষেতেই খড় শুকাতো। কিন্তু ক্ষেতে পানি থাকায় সেখানে খড় শুকানো তো পরের কথা,এবছর ধান ঘরে তুলার মতো পরিস্থিতি ছিলোনা। এছাড়া খড় শুকাতে প্রখর রোদের প্রয়োজন। ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই খড়গুলো রোদে শুকোতে দিলে এক-দুইদিনের মধ্যে শুকিয়ে যেত। পরে সেগুলো গো-খাদ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা হতো। যাদের গরু আছে তারা সেগুলো নিজেদের গরুকে খাওয়াতেন আর যাদের গরু নেই, তারা সেগুলো বিক্রি করতে পারতেন।

নরসিংপুর ইউনিয়নের জোহান এগ্রো ফার্মের মালিক জাহিদুল ইসলাম তুহিন জানান, নিজেরা ধান চাষ করে যেটুকু খড় পাই, তা দিয়ে কয়েক মাসের গরুর খাদ্যের যোগান হয়। তারপর কৃষকদের কাছ থেকে খড় কিনে সংরক্ষণ করি। কিন্তু এবার কৃষকদের খড় মাঠ থেকে বন্যায় নিয়ে গেছে, অনেকে ক্ষেতের ধানগুলো ও ঘরে তোলতে পারেনি।

এবারে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ক্ষেতেই খড় ফেলে রাখা হয়েছে। খড় সংকটের প্রভাব সামনের কয়েকদিন থাকবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

একই এলাকার গরু ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ জানান, ব্যাবসা করার জন্য গরু এনে এক থেকে দেড় মাস পালনের পর বাজারে বিক্রি করেন তিনি। গরু পালনের জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকেই খড় কিনেন। কিন্তু এবার খড় সংরক্ষণ করতে না পেরে ধান ক্ষেতেই খড় পচে নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষক ও গরু পালনকারী আব্দুল হাসিম বলেন, খড় ভিজলে বা পানিতে থাকার পরে সেই খড় শুকিয়ে নিলে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ জন্য সেগুলো খেতে দিলে গরু খায় না।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

ডা: মো: আসাদুজ্জামান বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় এবছর ব্যপক আকারে খড়ের সংকট দেখা দিয়েছে। আর এখন হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হওয়ায় ধান গাছগুলো আকারে ছোট হচ্ছে। এতে খড়ের পরিমাণও হচ্ছে কম। এ কারণে অন্যান্য জেলা থেকে খামারিদের খড় সংগ্রহ করে গো-খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

বন্যার পর থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা সরকারের নিকট কয়েক দফা ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের সহযোগীতায় ৯০০ মেট্রিকটন খাবার চেয়েছিলাম, সেখানে সকল উপজেলা পরিষদসহ সম্পন্ন প্রজেক্ট মিলিয়ে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে ১১১ মেট্রিকটন খাবার।

সরকারের দেওয়া খাবার পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। বর্তমানে জাতীসংঘের একটি অঙ্গসংগঠন (ঋঅঙ) ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের অর্থায়নে সুনামগঞ্জ জেলার ১১ টি উপজেলা হতে ৪ টি উপজেলার খামারীদেরকে খাবার দেওয়া হবে। সেই সেবার আওতায় দোয়ারাবাজার উপজেলাকে আনা সম্ভব হয়নি। ঋঅঙ সংস্থাটি আমাদের কাছে সহযোগীতা চেয়েছে আমরা প্রত্যেক উপজেলার চেয়ারম্যানগনদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের তালিকা করে সহযোগীতা করেছি। চেয়ারম্যানদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক,জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলাকে সেবার আওতায় এনেছে সংস্থাটি। ৪ টি উপজেলার ৭ হাজার খামারীকে ৫০ কেজি করে খাবার দেওয়া হবে। আশাবাদী চলিত মাসের বিতরে তাদের খাবার পৌঁছে দিতে পারব।

জেলা প্রানী সম্পদ অফিস থেকে ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (ঋঅঙ) সংস্থাকে অনুরুধ করা হয়েছে বাকি ৭ টি উপজেলার খামারীদের কে তাদের সেবার আওতায় নিয়ে আসার জন্য। সংস্থাটি যদি প্রত্যেক উপজেলাকে সেবার আওতায় নিয়ে আসেন তাহলে আমাদের খামারীরা উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে খামারিদের খড় সংরক্ষণের জন্য উপদেশ দেওয়া হয়। কিভাবে খড় সংরক্ষণ করতে হবে, সে প্রশিক্ষণও আমরা দিয়ে থাকি।

ad-spce

সুনামগঞ্জ

ad-spce

সর্বশেষ আপডেট

যুদ্ধজাহাজে নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদ ভরছে যুক্তরাষ্ট্র

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আজ মহান মে দিবস

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সমাবেশ-মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিলো ১১ দলীয় ঐক্য

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আগুন

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা সরকার প্রতি মণ ধান কিনবে ১৪৪০ টাকা

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হরমুজে ২০০০ জাহাজসহ ২০ হাজার নাবিক আটকা

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

থইথই পানিতে ডুবছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শব্দদূষণ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি ---------বিভাগীয় কমিশনার

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়াল সরকার

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ad-spce