আবীর মো. মুমিত
এপ্রিল / ১০ / ২০২৩
আবীর মো. মুমিত: এবার ঈদে সিলেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোতে এসেছে সাতশত ৬১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার নতুন নোট।
বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেটের উপ মহাব্যবস্থাপক জাবেদ আহমদ দৈনিক পুণ্যভূমিকে জানান, ঈদ-উল ফিতরে সিলেটে জনসাধারণের নিকট নতুন টাকা বিনিময় শুরু হয়েছে রোববার (৯ এপ্রিল) থেকে চলবে সোমবার (১৭ এপ্রিল) পর্যন্ত।
তিনি জানান সারাদেশের ন্যায় সিলেট অঞ্চলেও জনসাধারণের নিকট নতুন নোট ও ধাতব মুদ্রা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক তাই নির্ধারিত তারিখের প্রতি কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট এর নির্ধারিত দুটি কাউন্টারসহ- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দক্ষিণ সুরমা শাখা, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড শাহপরান শাখা, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড দরগাহ গেইট শাখা এবং জনতা ব্যাংক লিমিটেড কুমারগাঁও শাখা হতে নতুন নোট ও মুদ্রা বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে ছেঁড়ানোট বা নতুন নোট পেতে হলে জনসাধারণের যেকোনো ব্যাংকের যেকোনো শাখায় যোগাযোগ করার কথা, এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমাদের দেশে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভিন্ন, সিলেট সহ সারাদেশে ফুটপাত এবং রাস্তা দখল করে কিছু সংখ্যক লোক চালিয়ে যাচ্ছে টাকা লেনদেনের অবৈধ ব্যবসা।
সোমবার (১০ এপ্রিল) সিলেটের তালতলায় বাংলাদেশ ব্যাংকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নতুন নোট নেয়ার জন্য বেশ লম্বা লাইন এবং সে লাইনে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেটের এডিশনাল ডিরেক্টর (কারেন্সি) আব্দুল হাফিজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান "আপনারা যাওয়ার পর আমরা ফুটপাতের টাকা লেনদেনের ব্যবসায়ীদের লাইন থেকে বের করে দিয়েছি" তিনি আরো বলেন ব্যাংক কঠোর নজরদারিতে আছে এরা যেন ব্যাংকে প্রবেশ করতে না পারে কারণ এরা চিহ্নিত। পাশাপাশি ব্যাংক এর কোন কর্মকর্তা কর্মচারী এদের কে সহযোগিতা প্রদান না করেন সে ক্ষেত্রেও আমাদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করা আছে।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে বেশীরভাগ নোট চলে যায় ফুটপাতে বা রাস্তার পাশে টাকা বদলের ব্যবসায়ীদের হাতে।সিলেটের বন্দরবাজারের একটি এলাকা জুড়ে টাকা বদলের ব্যবসা রমরমা।
ঈদ উপলক্ষে ঈদি অথবা যাকাত দেয়ার জন্য একজন ক্রেতা বিশ টাকার এক বান্ডিল নতুন নোট অর্থাৎ দুই হাজার টাকার জন্য অতিরিক্ত দিতে হয় ২৩০ টাকা। বিক্রেতার ভাষ্য "কিছু কিছু ব্যাংক এর লোকদের কাছ থেকে আমাদেরও কিনে আনতে হয়েছে চওড়া দামে।
এছাড়াও অনেক ভোক্তা দাবী জানান যদি প্রশাসন অবৈধ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করতে সক্ষম হোন তাহলে ব্যাংকে এত লম্বা লাইন হওয়ার কথা না এবং আমরাও ঈদ মৌসুমে অনায়াসে টাকা সংগ্রহ করতে পারবো।