বিজ্ঞপ্তি
নভেম্বর / ০৭ / ২০২২
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিরা চায় না দেশের উন্নয়ন হোক। তারা মিথ্যাচারে লিপ্ত। তাদের মিথ্যাচার সত্ত্বেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রথম উদ্বোধনের মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। । কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেটা বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয় পদ্মাসেতু নিয়েও বিএনপি মিথ্যে প্রচারণা চালিয়ে ছিলো। বলেছিলো এই সেতু হবে না। খালেদা জিয়া নেতা-কর্মীদের বলেছিলেন এ সেতুতে ওঠবেন না। ভেঙে যাবে। বিএনপি মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনা আমাজনের মতো খরস্রোতা নদীর ওপর পদ্মাসেতু নির্মাণ করে সারা বিশ্বে সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে।
দারিদ্রতা দূরীকরণে বাংলাদেশ পুরো বিশ্বের কাছে এখন উদাহরণ। দেশ আজকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
বন্যার সময় প্রচুর মানুষকে সহযোগিতা করা হয়েছে। না খেয়ে ছিলো এমন মানুষ নেই। বিনামূল্যে খাদ্য দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আজ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশ আজ উদাহরণ। উন্নয়নের কথা জনগণের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপির ষড়যন্ত্র ও ভুলত্রুটি তুলে ধরতে হবে। দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে আবারও জয় লাভ করতে হবে।
তিনি বলেন- সংবিধান মেনে আগামী বছরের শেষদিকে জাতীয় নির্বাচন হবে। এ ব্যত্যয় হবে না। তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত করতে হবে। আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। সেজন্য প্রতিনিধি সভা গুরুত্ব বহন করে। প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আপনাদের কথা শুনতে চায়। আজ খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। নিজেদের মতো করে সবাই বক্তব্য দিয়েছে। এই প্রতিনিধি সভা আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশের সমৃদ্ধির জন্য আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।
রবিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১ ঘটিকায় রিকাবিবাজার কাজী নজরুল অডিটোরিয়ামে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি। তিনি নলেন, প্রতিনিধি সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পরে হলেও এধরণের সভা হচ্ছে। তিনি বলেন- ‘২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিলেট মহানগর গঠিত। ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের কথা শুনেছি। আমরা তাদের কথা জেনেছি। এই টিমটা দিয়েই হবে। তাদের বক্তব্যের মধ্যে স্প্রিরিট দেখেছি। যদি ইউনিট কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে করা যেত তাহলে ভালো হতো। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মহানগরের কার্যক্রম নিয় আমি অত্যন্ত খুশি। সাধারণ সম্পাদক আমাকে রেজুলেশন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক বিভিন্ন বই দেখিয়েছে। যা খুবই সুন্দর। তিনি বলেন, সাংগঠনিক শক্তিই আওয়ামী লীগের ভিত্তি। আর জনগণের শক্তিই আওয়ামী লীগের শক্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জনগণের শক্তি নিয়েই আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আবার মির্জা ফখরুল সাহেব গনতন্ত্রের কথা বলা।
বিএনপি কখনো গণতন্ত্র চর্চা করে না। তারা মানুষের উপর জুলুম-অত্যাচার করে বেড়ায়। তাদের শাসনামলে আমরা বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি, বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলো। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য করতে দেননি। আমাদের হাত-পা ভেঙে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাঁর শাসনামলে মির্জা ফখরুল সাহেবেরা নির্বিঘ্নে বাড়িতে ঘুমাচ্ছেন। আমরা তো অমানবিক আচরণ করিনি।’
তিনি আরও বলেন- ‘বর্তমানে আমরা গভীর ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলছি। আমাদের এসব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্নবিন্ন করে বের হয়ে আসতে হবে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কেননা আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তিই এ দেশের জনগণ। জনগণ ও দলের কর্মীদের সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম ও লড়াই করে এসেছে।
তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল নিয়ে সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন- ‘সিলেটে ১১০ কোটি টাকায় কেন্দ্রীয় ট্রাক ট্রার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। এ টার্মিনাল নির্মাণ করতে প্রয়াত মেয়র বদরুদ্দিন আহমদ কামরান আমার কাছে গিয়েছিলেন। আমি সেটা পাস করি। কিন্তু বর্তমান (আরিফুল হক চৌধুরী) সেই ট্রাক টার্মিনালকে বুলন্টিত করেছেন। জায়গা নিয়ে সমস্যা ছিলো কিন্তু কামরান ভাই সেটার সমাধান করে যেতে পারেন নি। তার পরে কেন এতো সময় লাগে সেই প্রশ্ন তো রাখা যায়।’
তাছাড়া তিনি বন্যা, করোনাকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহ নানান বিষয় তুলে ধরেন। সিলেটের উন্নয়নে নেত্রীর আন্তরিকতার কথাও তুলে ধরেন। পরিশেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন- ‘সামনে কঠিন সময় আসছে। লড়াই করতে হবে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনের সঙ্গে সর্ম্পক বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক আহমেদ হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ.কে আব্দুল মোমেন এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ডা.মুশফিক হোসেন চৌধুরী, আজিজুস সামাদ ডন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সিলেট-৩ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দীন খান।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিবৃন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।
সম্মানিত অতিথিবৃন্দ পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিনিধি সভার উদ্বোধন করেন। সভায় পবিত্র কোরান থেকে তেলওয়াত করেন হাফিজ মওলানা আবিদ হাসান রাহমানি ও পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি। সভায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় এবং শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরান।