পুণ্যভূমি ডেস্ক
মার্চ / ২৮ / ২০২৬
বজ্রপাত শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কালবৈশাখীর মৌসুমে বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়।
আবহাওয়া অধিদফতরকে উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রঝড় হয়ে থাকে।
ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বছরে গড়ে ৮০ থেকে ১২০ দিন বজ্রপাত হয়৷ সেই প্রতিবেদনে ‘রিস্কফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবিলিটি’ শীর্ষক এক গবেষণাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিবছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়৷
২০১৫ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সচেতন হলেই বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। বজ্রপাতে কী করতে হবে তা নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর, আবহাওয়া অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দশনায় বলা হয়েছে, বজ্রপাত সাধারণত ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময় ঘরে অবস্থান করতে হবে। জরুরী প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে রাবারের জুতা পরে বাইরে যেতে হবে, এটি বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা দেবে।
ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনও দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া যায়। বজ্রঝড়ের সময় গাছ বা খুঁটির কাছাকাছি থাকা নিরাপদ নয়। ফাঁকা জায়গায় যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছে বজ্রপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে অত্যন্ত বেশি।
বজ্রপাতের সময় শিশুরা যাতে খোলা মাঠে খেলাধুলা না করে সেটি খেয়াল রাখতে হবে। খোলা জায়গায় একসঙ্গে অনেকে থাকলে প্রত্যেককে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরত্বে অবস্থান করতে হবে। গাছ থেকে অন্তত চার মিটার দূরে থাকতে হবে। বাড়িতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকলে সবাইকে আলাদা আলাদা কক্ষে অবস্থান করতে হবে।
বজ্রপাতে কেউ আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মতো করেই প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হবে। আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃৎস্পন্দন দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।