লন্ডন থেকে মিছবাহ জামাল
অগাস্ট / ১৭ / ২০২২
বাংলাদেশ ও বিলেতের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী ও পরিচালক তসলিম উদ্দিন আহমেদ (তসলিম আহমেদ) যিনি সবার কাছে তসলিম ভাই নামে পরিচিত ছিলেন,
তিনি বুধবার (১৭ আগস্ট) ভোরে লন্ডনের নর্থ মিডিলসেক্স হসপিটালের পাশেই একটি কেয়ার হোমে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন)।
মরহুম তসলিম আহমেদের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯০ বছর, তিনি ১৯৩২ সালে ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ এ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবারের পক্ষে গত ৩ জানুয়ারি ৯০ বছর জন্মদিন পালন করা হয়। তিনি ১৯৬৭ সালে লন্ডনে আসেন, বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে অভিনয় জগতে তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেন, দারা শিকো, আশীষ কুমার লৌহ, বুলবুল আহমেদ, অভিনেতা আজিম, সিরাজুল হক মন্টু, মৃণাল মুখার্জি, লালু ভাই সহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের সাথে অভিনয় করেন। লন্ডনে এসে তিনি সিনেমাটোগ্রাফির উপর পড়াশোনা করেন, তারপর ১৯৭১ সালে দেশে ফিরে যান। দেশে বেশিদিন থাকতে পারেননি ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি আবারো লন্ডনে ফিরে আসেন, এরপর থেকে লন্ডনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পদচারনা। তিনি একধারে নাটক, টেলিফিল্ম, মঞ্চে উপস্থাপনা ও কৌতুক পরিবেশন করে বিলেতের ও ইউরোপের দর্শকের আনন্দ দিয়েছেন। দেশে-বিদেশে বিশেষ করে লন্ডন ও ইউরোপে তসলিম আহমেদের হাজার হাজার ভক্ত শ্রোতারা তসলিম আহমেদের অভিনয়ে মুগ্ধ থাকতেন। বিলেতে যে সকল নাট্য পরিচালক আছেন তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানে। তিনি অনেকের সাথে অভিনয় করেন তারা হলেন বীরেন ব্যানার্জী, চিত্রা ব্যানার্জী, শামীম চৌধুরী, অরুণ হালদার, উর্মি মাজহার, হিরণ বেগ, উদয় শংকর দাস, ডা. ফজল মাহমুদ, এ মালেক, নুরুল ইসলাম পুতুল, ইফফাত আরা, সৈয়দ আফসার উদ্দিন, আবু তালেব মুরাদ ও মিছবাহ জামাল প্রমুখ। লন্ডনে বাংলা নাটক নিয়ে আন্দোলনে তিনি ছিলেন সক্রিয়।
চ্যানেল ফোরে একবার সাক্ষাৎকারে তসলিম আহমেদ বলেন "অন্তত দিনে একবার হলেও আমাদের বলতে হবে যে আমরা বাঙালি"।
তিনি কৌতুক শিল্পী হিসেবেও ছিলেন খুবই জনপ্রিয়, সবাই তাকে হাসির রাজা বলে ডাকতো।
তসলিম আহমেদ ১৯৭২ সালে বিয়ে করেন, দুই ছেলে এক মেয়ের জনক তিনি, তার একমাত্র মেয়ে রেখা একজন প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পী। তসলিম আহমেদ বিলেতে ও ইউরোপে অসংখ্য মঞ্চনাটক ও মঞ্চে উপস্থাপনায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাঙালি সংস্কৃতি অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তসলিম আহমেদের নামাজে জানাজা পালমারসগ্রীন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবার পরে তাঁকে ওয়ালথামস্ট্রোর গার্ডেন অব ফিরদাউসে সমাহিত করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।