সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
অক্টোবর / ২৯ / ২০২২
দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগে পড়েছেন রংপুরগামী বাস যাত্রীরা। বাস
চলাচল বন্ধের সুযোগে বিকল্প বাহন সিএনজি ও অটোবাইক চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায়
করায় এই ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অতিরিক্ত টাকা ও সময় ব্যায়ে যেতে হচ্ছে
গন্তব্যে।
শনিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস
টার্মিনালে বাড়তি ভাড়া নিতে দেখা যায়। রংপুর ও দিনাজপুরে যেতে যাত্রীপ্রতি
ভাড়া ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
যা নিয়মিত ভাড়ার দেড় থেকে দুইগুণ বেশি।
সৈয়দপুর পৌরসভা ১৪ নং
ওয়ার্ড বাঁশবাড়ী এলাকার বৃদ্ধা আজিমন বিবি (৫৫) বলেন, আমার মেয়ে তামান্না
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। পরিবারে কোন পুরুষ মানুষ নাই। তাই
মেয়ের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছি।
তিনি
বলেন, বাসে রংপুর যেতে ভাড়া লাগত ৯০ টাকা। ধর্মঘটের কারণে সিএনজি ও অটো
রিকশায় যেতে ভাড়া দিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। এতে অতিরিক্ত টাকাও গুনতে হচ্ছে।
আবার সময়ও লাগছে বেশী। এতে কার কি? শুধু আমাদেরই কষ্ট হচ্ছে। অন্যদিন
মালামাল নিয়ে সৈয়দপুর-তারাগঞ্জে যাতায়াত ভাড়া ১০০ হলেও আজ ব্যাটারীী চালিত
চার্জার ভ্যানে দিতে হয়েছে ৪০০ টাকা।
সৈয়দপুর পাইকারি কাঁচামাল
বাজারে তারাগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন এমন অভিযোগ করে বলেন,
ভ্যান চালকেরা আজ তারাগঞ্জ থেকে রংপুরে যাত্রী প্রতি ১০০ টাকা ভাড়া নিয়ে
ব্যস্ত। তাই এমন পরিস্থিতি।
রংপুর থেকে আসা সিএনজি চালক আবেদ আলী
জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিপুল সংখ্যক সিএনজি অটোরিকশা, চার্জার ভ্যান
ভাড়া করে সমাবেশে গেছেন। একারনে তিন চাকার বাহনের সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে
যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ভাড়াও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন,
ধর্মঘটের কারণে বাস, ট্রাক না থাকায় বিকল্প যানবাহনে চলাচল করছেন যাত্রীরা।
রংপুরে নেতা-কর্মীদের পৌঁছে দিয়ে অন্য যাত্রী নিয়ে সৈয়দপুরে এসেছি। ফের
রংপুরের ভাড়ার জন্য বসে আছি।
একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা
আরিফ আহমেদ বলেন, জরুরী ভিত্তিতে রংপুরে যেতে হচ্ছে। কিন্তু গণপরিবহণ বন্ধ
থাকায় অন্য বাহনই ভরসা। কিন্তু সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কম থাকায়
অন্যদিনের চেয়ে ভাড়া বেশি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, যে তিনচাকার যানবাহন
বন্ধের দাবীতে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় রংপুর বিভাগের সব
মহাসড়কই আজ তাদের দখলে। এতে কি লাভ হলো মটর মালিকদের? বরং ওইসব বাহনের
চালকদেরই পোয়াবারো। মাঝ থেকে ভোগান্তিতে পড়েছে জনগণ।